কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ এ ১১:৪৩ PM
কন্টেন্ট: পাতা
বাংলা বিভাগ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক উৎকর্ষ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি। ১৯৮৩ সালে কলেজের স্নাতক শ্রেণির পাঠ্যক্রম শুরু হয় এই বিভাগ থেকেই, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উচ্চতর শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বিভাগটি বাংলা বিষয়ে স্নাতক ( বিএ ) ও স্নাতকোত্তর ( এমএ ) ডিগ্রি প্রদান করে, যেখানে প্রাচীন,ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্য, ভাষাতত্ত্ব এবং সাংস্কৃতিক অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিভাগ শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও গবেষণাভিত্তিক মানসিকতা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যাতে তারা একাডেমিক, শিক্ষা ও সৃজনশীল পেশায় দক্ষতার সাথে অবদান রাখতে পারে। কঠোর পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সাহিত্য বিষয়ক সেমিনার, গবেষণা প্রকল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে গভীর অনুধাবন লাভ করে, যা কলেজের জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
ইংরেজি বিভাগের ইতিহাস
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা
একাডেমিক উৎকর্ষ ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগ। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে অল্প কয়েকজন উৎসাহী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক নিয়ে ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে এ বিভাগ। প্রতিষ্ঠার শুরুতে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ইংরেজিকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে পড়ানো হলেও পরবর্তীতে, সময়ের চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহের প্রেক্ষিতে বিভাগের পাঠ্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ইংরেজি ভাষা সাহিত্যে উচ্চশিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চালু করা হয় অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম, যা এ বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বর্তমানে এই বিভাগটি কলেজের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিভাগ হিসেবে স্বীকৃত। বিভাগে কর্মরত অত্যন্ত দক্ষতাসম্পন্ন ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, সেমিনার, বিতর্ক, নাটক ও দেয়ালপত্রিকার মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে। এ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। বিভাগটি সর্বদা সমালোচনামূলক চিন্তা, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল অভিব্যক্তি এবং নৈতিক মূল্যবোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে যার ফলশ্রুতিতে আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীগণ শিক্ষা, প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং উন্নয়নখাতসহ পেশাগত ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন। ধ্রুপদি ও আধুনিক সাহিত্যচর্চার ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এই বিভাগটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মনন ও সামাজিক দায়িত্ববোধে বলীয়ান করে গড়ে তোলার কাজে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অর্থনীতি বিভাগ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে অর্থনীতি বিভাগ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভূক্ত। বিভাগটি কলেজের একাডেমিক ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত। ১৯৮২ সালে অনার্স কোর্স চালুর মাধ্যমে অর্থনীতি বিভাগ যাত্রা শুরু করে এবং প্রথম বিভাগীয় প্রধান ছিলেন প্রফেসর আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে অর্থনীতি বিভাগে অনার্স,প্রিলি মাস্টার্স এবং মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। বি সি এস (সাধারন শিক্ষা) ক্যাডার সদস্য দ্বারা পরিচালিত এ বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সোনিয়া রহমান। এছাড়াও আছেন প্রফেসর শাহিনুর বেগম,প্রফেসর জাকেরা বেগম আরও আছেন অন্যান্য শিক্ষক মন্ডলী যারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিভাগের ক্লাস এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস সহ চারটি শ্রেনিকক্ষ এবং প্রচুর বই সম্বলিত একটি সেমিনার কক্ষ যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার একটি সুন্দর পরিবেশ পায় এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত। শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী সংখ্যা: ১ম বর্ষ (২০২৩-২৪) - ১৭০ জন, ২য় বর্ষ (২০২২-২৩) - ১৬৬ জন, ৩য় বর্ষ (২০২১-২২) - ৯৯ জন, ৪র্থ বর্ষ (২০২০-২১) – ৯৯ জন এবং মাস্টার্স (২০২৩-২৪) – ১৪৬ জন। প্রতিবছর বিভাগ থেকে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। একাডেমিক বিষয়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে অভিভাবক সভা আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সফর আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হয়, যা তাদের নেতৃত্বগুণ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্লাব ও কমিটিতে যুক্ত থাকে যেখানে দলগত কাজের মাধ্যমে নেতৃত্ব ও সহযোগিতার মানসিকতা বিকাশ পায়। উদ্যোক্তা মেলার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হয়, যা তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। সফল উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রেরনা সৃষ্টি হয় এবং তারা নিজেদের উদ্যোগ শুরু করার জন্য অনুপ্রাণিত হয়। এছাড়া প্রতিবছর কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। এইসকল কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত হয়, যার ফলে তারা আত্মনির্ভরশীল ও সমাজের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়। অর্থনীতি বিভাগ থেকে সাফল্যের সাথে শিক্ষাজীবন শেষ করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সুনামের সাথে কাজ করছে। বিভাগে কর্মরত আছে একজন সেমিনার সহকারী, একজন কম্পিউটার অপারেটর এবং দুইজন অফিস সহায়ক। অর্থনীতি বিভাগ বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের বড় বিভাগগুলোর মধ্যে একটি। কলেজের সকল ক্ষেত্রে এবং কলেজ শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে অর্থনীতি বিভাগ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ একটি অন্যতম বৃহৎ বিভাগ যার একটি অসাধারণ এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। এখানে 2006 সালে অনার্স প্রোগ্রাম এবং 2010 সালে মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করা হয়। তখন থেকেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রী উক্ত বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্মানজনক অবস্থানে আছে। বর্তমানে বিভাগে অধ্যয়নরত 400 শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক 1ম বর্ষ (2023-24) এ 85 জন, স্নাতক 2য় বর্ষ (2022-23) এ 76 জন, স্নাতক 3য় বর্ষ (2021-22) এ 73 জন, স্নাতক 4র্থ বর্ষ (2020-21) এ 78 জন এবং মাস্টার্স শেষ বর্ষ (2023-24) এ 76 জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের অত্যন্ত যোগ্য এবং নিবেদিত প্রাণ একদল কর্মকর্তাবৃন্দ উক্ত বিভাগে কর্মরত আছেন যারা এসকল শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভাগে 2টি সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, 1টি সমৃদ্ধ সেমিনার রুম, 7 জন শিক্ষক, 1 জন সেমিনার সহকারী এবং 2 জন অফিস সহায়ক কর্মরত আছে। বিভাগটি বিশ্লেষণী চিন্তাধারা, শাসন, অধ্যয়ন, নীতি বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে ছাত্রীদের আলোকিত করতে গুরুত্বারোপ করে থাকে। উক্ত বিভাগটি আইন, লোক প্রশাসন, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রসমূহে পেশা নির্বাচনে এবং গঠনে ছাত্রীদের প্রস্তুত করে চলছে। সমৃদ্ধ পেশা গঠনের পাশাপাশি ছাত্রীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস, পেশাদারিত্ব এবং ইতিবাচকতা বৃদ্ধিতে বিভাগ থেকে নিয়মিত শিক্ষাসফর, কাউন্সেলিং, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, একাডেমিক সেমিনার, পুস্তক পর্যালোচনার মতো নানাবিধ পাঠ্যক্রমের বহির্ভূত কার্যক্রমও পরিচালিত হয়ে থাকে। একটি দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিভাগটি দক্ষ পেশাগতভাবে যোগ্য জনগোষ্ঠী তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে যারা জাতীয় এবং আন্তার্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়ন, শান্তি এবং সহাবস্থান বজায় রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
দর্শন বিভাগ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগ শুধু একটি শিক্ষা বিভাগ নয় এটি একটি জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র। মানবজীবনে মৌলিক প্রশ্ন ও দর্শনে গভীরতা অন্বেষনের সুযোগ দেয়। এই বিভাগে শিক্ষার্থীরা যুক্তি, নীতিশাস্ত্র, জ্ঞানতত্ত্ব, ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে শিক্ষা লাভ করে। শুরুতে যুক্তিবিদ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ানো হতো। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে জতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রোগ্রাম চালু হয় যেখানে শিক্ষক সংখ্যা ছিল ৪ জন এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৪১ জন। বিভাগটি মেধাগত বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আজীবন শিক্ষার জন্য নিবেদিত। এই বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব অজনই করে না বরং তারা শিক্ষকতা আইন ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইতিহাস বিভাগ
1. বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ২০০৫ সালে ইতিহাস বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় শিক্ষক সংখ্যা ছিলো ০৪ (চার) জন।
১) জনাব হাসনা হেনা বেগম , সহযোগী অধ্যাপ ও বিভাগীয় প্রধান
২) জনাব সাবিনা ইসমাৎ , সহকারী অধ্যাপক
৩) জনাব সাহেলী ফারজানা , প্রভাষক
৪) জনাব ফাতেমা ফেরদৌস, প্রভাষক
শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ৫০ জন।
২. ০২ (দু্ই) টি শ্রেণী কক্ষ ও ০১ (এক) টি সেমিনার কক্ষ নিয়ে ইতিহাস বিভাগ শুরু হয়।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ঢাকা শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ইসলামি সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য অধ্যয়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। বিভাগটি ইসলামি ঐতিহ্য, ইসলামের ঐতিহাসিক বিকাশ এবং বিশ্ব ইতিহাসে মুসলমানদের অবদানের গভীর ধারণা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ২০০৫ সালে অনার্স কোর্স এবং ২০১২ সালে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের পাঠ্যক্রমটি ইসলামের ইতিহাস, প্রাচীন, মধ্যযুগীয় এবং আধুনিক মুসলিম সমাজ, সভ্যতা,শিল্প, স্থাপত্য, চিত্রকলা ও লিপিকলা এবং ইসলামিক ঐতিহ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ, সুসজ্জিত শ্রেণীকক্ষ এবং একটি সমৃদ্ধ সেমিনার লাইব্রেরি সহ শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক, গবেষণা এবং বিভিন্ন পেশাদার ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে। বিভাগটি সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং জ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করে এবং বিশ্ব সভ্যতার উপর ইসলামের ইতিহাসের গভীর প্রভাব অন্বেষণ করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে।
ইসলাম শিক্ষা বিভাগ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিভাগ। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটি শুরু থেকেই উচ্চ শিক্ষার মান রক্ষা এবং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছে। এখানে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক পাঠদানের সুযোগ রয়েছে। এই বিভাগের লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামের মৌলিক জ্ঞান, ইতিহাস, সংস্কৃতি, আইন ও দর্শনকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা। অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষকগণ নিয়মিত পাঠদান, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে তুলছেন। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ নিয়মিত পাঠদানকার্যক্রম পরিচালনা করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তাশীলতা ও সমাজসেবামূলক মানস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে।
সমাজকর্ম বিভাগ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ২০০৫ সালে সমাজকর্ম বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় শিক্ষক সংখ্যা ছিলো ০৫ জন এবং স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ১২০ জন। ২০১০ সালে স্নাতকোত্তর শ্রেণির যাত্রা শুরু হয় এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৫০ জন। ০৩ (তিন) টি শ্রেণি কক্ষ ও ০১ (এক) টি সেমিনার কক্ষ নিয়ে সমাজকর্ম বিভাগ শুরু হয়। বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা ০৫(পাঁচ) জন এবং কর্মরত কর্মচারী ০৩ (তিন) জন। ০২(দুই) টি শ্রেণি কক্ষ ও ০১(এক) টি সেমিনার কক্ষ রয়েছে।
মিশন (Mission)
সমাজের অনগ্রসর, বঞ্চিত দরিদ্র ও সমস্যাগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধন, সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান এবং সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণীর ক্ষমতায়নের সাহায্যার্থে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরী করা। To create skilled population for the welfare of the backword, deprived, poor and disadvantaged groups of the socity, providing social security and empowering the underprivileged classes.
ভিশন (Vission)
সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা, যাতে প্রত্যেক নাগরিক তার অধিকার, সুযোগ এবং সুরক্ষা প্রাপ্তির মাধ্যমে আমাদের দেশ উন্নত এবং মানবাধিকার সম্পন্ন একটি দেশ হতে পারে। The main goal of social work is the maintain social balance, so that our country can be a developed and human rights country by getting every citizen his rights, opportunities and protection।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
The Department of Sociology at Begum Badrunnessa Govt. Girls' College, under the Faculty of Social Sciences, offers both undergraduate (honors) and postgraduate programs. It began with the Preliminary Masters Course in 1999, initiated by professor Sultana Begum. At that time, there were six teachers in this Department. The honours programs was introduced in the 2006-2007 session, under professor Merina Jahan's Leadership. At present, the department offers 90 seats for the Honors first year and 90 seats for the Masters course. Today, around 420 students are enrolled in the Honors and MSS programs, continuing the department's legacy of academic excellence. Sociology students consistently excel academically and actively engage in extracurricular activities, including debates, cultural programs, and sports. The department is dedicated to nurturing both academic excellence and personal development, ensuring students are well-prepared for future careers in the field of Sociology. The department provides a strong academic foundation, ensuring students excel in research and professional fields. The department is equipped with a seminar room & 2 class rooms for practical learning, enhancing students' skills and knowledge. Currently, there are 6 teachers and 2 staff members in the department.
মনোবিজ্ঞান বিভাগ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে মনোবিজ্ঞান বিভাগটি ১৯৬৫ সালের দিকে এইচ.এস.সি. এবং ডিগ্রী লেভেলে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪-২০০৫ সেশনে, বদরুন্নেসা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় এবং অনার্স কোর্স চালু করে। ২০০৯-২০১০ সেশনে, বিভাগটিতে মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। ২০১৭-১৮ সেশনে মনোবিজ্ঞান বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। বর্তমানে মনোবিজ্ঞান বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও তত্ত্বাবধানে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যাচেলর ডিগ্রী সমাপ্ত করার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ফলিত মনোবিজ্ঞান বিষয়ে (যেমন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি, এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি, স্কুল সাইকোলজি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনাল সাইকোলজি প্রভৃতি) মাস্টার্স ডিগ্রী করার সুযোগ পায়। এরপরে তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে কাউন্সিলর, সাইকোলজিস্ট ও মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করে থাকে যেখানে তারা তাদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারে যা সকলের মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক কল্যান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ
গার্হস্থ্য অর্থনীতি একটি বহু বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্র যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের সার্বিক কল্যানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে। এটি সাধারনত পাঁচটি প্রধান শাখায় বিভক্ত। প্রতিটি শাখা দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবহারিক শিক্ষার মৌলিক চাহিদার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
1। খাদ্য ও পুষ্টি : এই শাখায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস খাবার পরিকল্পনা, রান্নার কৌশল এবং পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা , খাদ্যের পুষ্টিমূল্যের ব্যবহার, খাদ্য সংরক্ষন প্রক্রিয়া, দেহে পুষ্টির চাহিদা ও পথ্য পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয় শেখানো হয়। এছাড়াও এতে খাদ্য নিরাপত্তা, গনপুষ্টি, খাদ্য রসায়ন এবং পুষ্টি বিজ্ঞানের মূল ধারনাগুলো অন্তর্ভূক্ত থাকে।
2। বস্ত্র ও বয়ন শিল্প : এই অংশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের তন্তু সনাক্তকরন, বয়ন, পোশাক তৈরী, সেলাইয়ের কৌশল এবং ফ্যাশন ডিজাইন ও মারচেনডাইজিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়াও পোশাকের রক্ষনাবেক্ষন ও মেরামত এবং পোশাকের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে।
3। গৃহ ব্যবস্থাপনা : গৃহ ব্যবস্থাপনা বিষয়টিকে পারিবারিক জীবনের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা যায়। এই শাখায় অর্থ, সময় ও শক্তি , গৃহনির্মাণ পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মতো বিষয় শেখানো হয়। এটি একজন ব্যক্তিকে ঘর সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
4। শিশু বিকাশ ও পারিবারিক সম্পর্ক : এই শাখায় শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ, সঠিক অভিভাবকত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আলোচনা করে। এটি মজবুত পারিবারিক বন্ধন গড়ে তুলতেও দায়িত্বশীল মানুষ গঠনে সহায়তা করে।
5। ব্যবহারিক শিল্পকলা : আবাসন ও অভ্যন্তরীন সজ্জায় এই অংশটি আরামদায়ক ও কাh©কর জীবন-যাপনের পরিবেশ তৈরী করাার উপর গুরুত্ব দেয়। এতে গৃহ সজ্জার নকশা, আসবাব নির্বাচন, রঙ ও আলোর ব্যবস্থাপনা এবং স্থান ব্যবহারের কৌশল শেখানো হয়। এছাড়াও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতি, শিল্পের ইতিহাস, পাট, কাঠ ও বস্ত্র শিল্প, মৃৎশিল্প ও অলংকার শিল্প সম্পর্কে জানে। শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল প্রভিার বিকাশ ও কারুশিল্প তৈরীতে দক্ষতার পরিচয় দেয়।
এই পাঁচটি শাখা সম্মিলিতভাবে গার্হস্থ্য অর্থনীতিকে একটি বাস্বমুখী ও প্রাসঙ্গিক শিক্ষাক্ষেত্রে পরিনত করে।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
বেগম বদরূন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ একটি অন্যতম বিভাগ যার একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে। এখানে ২০০৫ সালে অনার্স প্রোগ্রাম এবং ২০১৩ সালে মাস্ট্রার্স চালু করা হয়। তখন থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রী উক্ত বিভাগ থেকে স্মাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে। বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্মানজনক অবস্থানে আছে। বর্তমানে বিভাগে অধ্যয়নরত ৩৫০ জন, শিক্ষার্থী মধ্যে স্নাতক ১ম বর্ষে ( ২০২৪-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ৬৮জন, স্নাতক ২য় বর্ষে (২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ৫০জন,স্নাতক ৩য় বর্ষে ( ২০২১-২০২২) শিক্ষাবর্ষে ৪৮জন , স্নাতক ৪র্থ বর্ষে (২০২০-২০২১) ৫২জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নে আছে। এবং মাস্ট্রার্স শেষ বর্ষে (২০২৩-২০২৪) ৬৭জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নে আছে। বিসিএস ( সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের অত্যন্ত যোগ্য নিবেদিত প্রাণ একদল কর্মকর্তা উক্ত বিভাগে কর্মরত আছেন। যারা এসকল শিক্ষার্থীদের গুনগত শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভাগে ৩টি সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ ১টি জি আই এস ল্যাব,১টি সেমিনার লাইব্রেরীসহ বিভাগে ৩জন শিক্ষক, ১জন প্রর্দশক, ১জন সেমিনার সহকারি ,১জন অফিস সহায়ক কর্মরত আছেন। বিভাগটি মহাকাশ ও আঞ্চলিক শিক্ষায় এবং পৃথিবী এর পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বিভিন্ন প্রাকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও দূর্যোগ মোকাবেলায় কৌশল ইত্যাদি বিষয়ে ছাত্রীদের ব্যবহারিক করতে গুরূত্বারোপ করে থাকে। বিভাগটি প্রতিবছর ৫ই জুন আর্ন্তজাতিক পরিবেশ দিবস অত্যন্ত জাঁকজমক পূর্ণভাবে পালন করে থাকে যাতে ছাত্রীরা পরিবেশ বিপযয়ের কারণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন হতে পারে। এ বিভাগ প্রতিবছর সম্মান ও মাষ্ট্রার্স শেণির পাঠ্যক্রমের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভূক্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসফরের আয়োজন করে। এছাড়া ও এ বিভাগে শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, একাডিমিক সেমিনার, পুস্তক পর্যালোচনার মতো নানাবিধি কো-কারি কলাম কাযক্রম পরিচালনা কর একটি দৃঢ় একাডেমিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে বিভাগটি যোগ্য জনগোষ্ঠী তৈরীতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়ন, শান্তি এবং সহাবস্থান বজায় রাখবে এবং টেকশই বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
গণিত বিভাগ
গণিত বিভাগ ঢাকাস্থ বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের একটি স্বনামধন্য বিভাগ। ২০০৫ খ্রি. থেকে এ বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। এ বিভাগে স্নাতক সম্মান ও মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। এ বিভাগ থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে। একটি গতিশীল, অংশগ্রহণমূলক ও সংস্কৃতি সহায়ক সেবা প্রদানের জন্য আমরা গর্বিত। বেশ কিছু যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের সমন্বয়ে বিভাগটি গঠিত। আমাদের উন্নতি সন্তোষজনক।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্হিত বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজ 1948 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিজ্ঞান অনুষদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। শুরু থেকে D”Pgva¨wgK শ্রেণী চলমান থাকলেও 2007 সালে 60 জন শিক্ষার্থী নিয়ে সম্মান শ্রেণী শুরু হয় যার ধারাবাহিকতায় মাস্টার্স শ্রেণী চলমান। উক্ত সময়ে ড. দীপিকা রানী সরকার সহযোগী অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মকাল সমাপ্তির পর যারা এসেছেন তারাও সুনামের সাথে তাদের দায়িত্ব অদ্যাবধি পালন করে চলেছেন। বর্তমানে বিভাগের অবকাঠামোগত তথ্য: শ্রেণীকক্ষ 2টি, ল্যাব 2টি ও সেমিনার কক্ষ 1 টি। ছয়টি পদে মোট শিক্ষক 8জন এবং প্রদর্শক 1জন কর্মরত আছেন। 1জন সরকারী ও 2জন মাষ্টার রোলে কর্মচারী কর্মরত।
রসায়নবিজ্ঞান বিভাগ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সূচনালগ্ন থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির আবশ্যিক হিসেবে রসায়ন বিষয় চালু রয়েছে। এখান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও গবেষণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এ সফলতার ধারাবাহিকতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০১ সালে রসায়নে স্নাতক (সম্মান) এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়। ২০১৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিতে রসায়ন বিভাগে চার বছর মেয়াদি স্নাতক এবং এক বছরের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রতি বছর প্রায় ২৬২ জন শিক্ষার্থী শিক্ষালাভ করছে। এ বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR) এবং বাংলাদেশ পরমাণুশক্তি কমিশন (BAEC) এর সাথে যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম করছে এবং এর ফলাফল বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ এবং সেমিনারে উপস্থাপিত হচ্ছে। একাডেমিক বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে। বিভাগের নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী ও সহায়ক কর্মীগণ উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমৃদ্ধি লাভ করে আসছে। মাত্র ৫০ জন ছাত্রী এবং ৭ জন শিক্ষক দিয়ে শুরু করে, বিভাগটি ২৪৩ জন ছাত্রী, ১০ জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক এবং ৩ জন সহায়ক কর্মী নিয়ে একটি প্রাণবন্ত শিক্ষা পরিবারে পরিণত হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা কেবল শিক্ষাক্ষেত্রেই উজ্জ্বল নয় - ধারাবাহিকভাবে চিত্তাকর্ষক সিজিপিএ অর্জন করছে - বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন ধরণের পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। বিভাগটি তার গতিশীল পরিবেশ এবং শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের নেতৃত্বদানকারী পেশাদার তৈরী করে চলেছে।
প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ
বাংলাদেশের নারী শিক্ষা প্রসারে দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে চালু হওয়া বিভাগসমুহের মধ্যে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুরুতে এ বিভাগের কার্যক্রম উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সীমিত ছিল। পরবর্তীতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ২০০৪ সালে স্মাতক (সম্মান) ও ২০১৪ সালে স্নাতকোত্তর শ্রেণীর কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পায়। তদপ্রেক্ষিতে, সর্বপ্রথম ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেনীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স ও ১ বছর মেয়াদী মাষ্টার্স কোর্স চালু আছে। বিভাগটিতে ০৯ জন অনুষদ এবং প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। বিভাগে প্রায় ১২০০ বই সম্মৃদ্ধ ১টি সেমিনার, ২টি উন্নত ল্যাবরেটরি এবং সুসজ্জিত পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ রয়েছে। বিভাগীয় প্রধান ও অনুষদবৃন্দের সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব অত্র বিভাগের ঐতিহ্য ও সুনাম অব্যহত রেখেছে।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ ২০১৫ সালের জুলাই মাসে পঞ্চাশজন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করে । তৎকালীন অধ্যক্ষ স্বপ্না রাণী সাহার উদ্যোগে এই বিভাগ খোলা হয় । শুরুতে বিভাগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ প্রোগ্রামের আওতাধীন ছিল । ২০১৭-২০১৮ সেশনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের বিবিএ প্রোগ্রামের আওতায় আসে যা এখনও চলমান । বিভাগের বর্তমান ছাত্রী সংখ্যা দুইশ ছাব্বিশ জন। ছাত্রীদের জন্য বিভাগে রয়েছে একটি সেমিনার যা তাদের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানসিক বিকাশে সহায়তা করে , যেখানে বসে তারা স্বপ্ন বুনে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ।
বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত একাডেমিক প্রোগ্রামগুলির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে হিসাববিজ্ঞান পেশার জন্য তাত্ত্বিক ধারণা এবং ব্যবহারিক ধারণা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং বোধগম্যতার বিকাশ করা যাতে তারা চাকরির বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে টিকে থাকতে পারে এবং আধুনিক ব্যবসায়িক বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সফলভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। বিভাগে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। এই বিভাগ শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাগত এবং পেশাদার প্রচেষ্টায় দক্ষতা অর্জনকারী অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে পেরে সম্মানিত বোধ করে।
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
ব্যবস্থাপকীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও ক্ষমতার মাধ্যমে সবকিছু পরিচালনা করা যায়
২০১৫ সালে, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৩ জন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে, ৬ জন শিক্ষক, ২ জন অফিস সহকারী এবং ১ জন সেমিনার সহকারী বিভাগ পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়াও, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৪টি শ্রেণিকক্ষ, ১টি সেমিনার কক্ষ এবং ১টি শিক্ষক লাউঞ্জ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনার্স ও ডিগ্রি (পাস) কোর্স চালু থাকলেও ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজের মধ্যে এই কলেজটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিটি সদস্য ব্যবসায়িক জ্ঞানের সাথে নান্দনিকতা ও পরিশীলতার সংমিশ্রণে শিক্ষার্থীদের আধুনিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী তাদের অনার্স কোর্সের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পাঠদান করেন এবং কলেজ প্রশাসনের অর্পিত সকল দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। এছাড়াও, তারা জাতীয় প্রয়োজনের সময় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেন। লক্ষ্য: আধুনিক, সদা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে অবিরাম অভিযোজনের জন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করা এবং স্থিতিশীল ব্যবস্থাপকীয় গুণাবলী অর্জনে সর্বদা প্রস্তুত রাখা। ভিশন: বিশ্ব মঞ্চে সফল ব্যবস্থাপক ও উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং সমগ্র জাতির সেবা করতে প্রস্তুত করা। ব্যবস্থাপনা বিষয়কে ব্যবসায় অনুষদের সকল বিষয়ের জননী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন “ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন”। বিশ্বের সকল নেতৃত্বের মৌলিক নীতি হলো হেনরি ফেয়লের ১৪টি ব্যবস্থাপনার নীতি। এফ.ডব্লিউ টেইলরের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করেছেন। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ তার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। নারী নেতৃত্বকে ত্বরান্বিত করার জন্য ব্যবস্থাপকীয় জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই।