কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ এ ১১:৪৬ PM
কন্টেন্ট: পাতা
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ রাজধানীর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অবস্থিত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুপরিচিত এবং সুবিদিত সরকারি কলেজ। বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষদিকে ১৯৪০ সালে তৎকালীন ইডেন ভবনে এই কলেজটি ‘ইডেন স্কুল ও কলেজ’ নামে স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরপরই ১৯৪৮ সালে কলেজটি বক্শি বাজার ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয় এবং তখন হতেই কলেজটি প্রথম সরকারি কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত কলেজটি ইডেন কলেজ নামে পরিচিতি পায়।
পরবর্তীতে আজিমপুরের নতুন ভবনে কলেজটির ডিগ্রী শাখা চালু হলে নতুন ভবনটি ইডেন কলেজ নাম ধারণ করে এবং বক্শি বাজারের সেই স্বনামখ্যাত ইডেন কলেজ প্রথমে ‘গভর্মেন্ট ইন্টারমিডিয়েট’ কলেজ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৮ সালে মূল ক্যাম্পাসের নামকরণ করা হয় ‘ঢাকা সরকারি মাহিলা কলেজ।’ ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম বদরুন্নেসার (১৯২৫-১৯৭৪) মৃত্যুর পর তাঁর নামানুসারে কলেজটির নামকরণ করা হয় ‘বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ।”
আজ এখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাদান ছাড়াও কলা, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে বি এ অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করা হয় মোট ২০টি বিষয়ে। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ এ কলেজের বিভিন্ন বিভাগে ১৪৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, যাঁদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির বাইরেও এমফিল, পিএইচডি ও অন্যান্য উচ্চতর ডিগ্রি এবং প্রশিক্ষণ অর্জন করেছেন। তাঁদের আন্তরিক তত্ত্বাবধানে বিষয়ভিত্তিক পাঠের পাশাপাশি নানামুখী আন্তঃশিক্ষা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে কলেজটি বর্তমানে দেশর অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের মেধা ও মননকে প্রসারিত করার লক্ষ্যে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ বেশ কিছু সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কলেজে শিক্ষার পরিবেশকে ডিজিটালাইজ করার লক্ষ্যে ডিজিটাল নোটিশ বোর্ড, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে পাঠদান, ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট সংযোগ ও সিসিটিভি ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষাচলাকালীন কলেজ গেইটে নিরাপত্তা আর্চওয়ে ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে বেশকিছু সেবা ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে আছে স্টুডেন্টস ডেটাবেজ তৈরি ও বায়োমেট্রিক উপস্থিতির ব্যবস্থা। এছাড়াও কলেজে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্র প্রদান, ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের আনন্দের সাথে পাঠ গ্রহণে কলেজমুখী করে তোলে। এছাড়া বিতর্ক প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সপ্তাহ প্রভৃতি জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে কলেজটির উল্লেখযোগ্য সুনাম রয়েছে। শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি উন্নত নাগরিক গঠনের প্রয়াসে কলেজে বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রোভার স্কাউটস কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কালেজটিতে মোট ৬টি ভবন রয়েছে। তার মধ্যে দক্ষিণ ভবনটির প্রতিষ্ঠাকালীন অবকাঠামো এখনো বিদ্যমান। প্রশাসনিক ভবন, পূর্ব ভবন, উত্তর ভবন, দক্ষিণ ভবন, নবনির্মিত একাডেমিক ভবন এবং অডিটোরিয়াম ভবনসহ সবগুলো ভবনেই শ্রেণি কার্যক্রম এবং নানামুখী কার্যক্রম বিদ্যমান। কলেজটিতে আবাসিক ছাত্রীদের জন্য মোট ৪২০ সীটের ২টি ভবন রয়েছে। ১টি কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, ১টি অডিটোরিয়াম, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কলেজ কর্মচারীদের জন্য একটি ক্যান্টিন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য কলেজে বর্তমানে ৪টি বাস রয়েছে।
বর্তমানে কলেজের সার্বিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে মেধার বিকাশ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে অর্জন করছে সুনাম ও সাফল্য। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রত্যেকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান কলেজকে গৌরবান্বিত করেছে। সর্বোপরি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সুখ্যাতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেগম বদরুন্নেসা আহমদ
(১৯২৫-১৯৭৪)
বেগম বদরুন্নেসা আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। অল্প বয়স থেকেই তিনি রাজনীতিতে গভীর আগ্রহ দেখান। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের সদস্য হিসেবে তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করে একজন এম.পি. হয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ কমিশনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ইস্ট পাকিস্তান উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা সমিতির উপদেষ্টা পদে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসন ও কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে সহায়তা করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। দেশ ও মানুষের সেবায় অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে তাঁকে সমাজসেবায় মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।