কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ এ ০৫:৪৩ PM
কন্টেন্ট: পাতা
বইয়ের আবাসস্থল হলো গ্রন্থাগার। বই জ্ঞান ধারণ করে আর গ্রন্থাগার বই ধারণ করে। বই যদি হয় স্থির জলের পাত্র, তবে গ্রন্থাগার বহমান জলের বিস্তৃত জলরাশি। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয় রোধে এবং মানব জীবনকে সার্থক করতে গ্রন্থাগারই হতে পারে সর্বোৎকৃষ্ট বিকল্প। প্রমথ চৌধুরী গ্রন্থাগারের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন,“এদেশে লাইব্রেরীর সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল কলেজের চেয়ে কিছু বেশি। তার কারণ আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে এক রকম মনের হাসপাতাল। দেহের সুস্থতার জন্য দরকার লাইব্রেরি”।
ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজটি এক বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজধানীর বুকে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং সুবিদিত। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরুতে গ্রন্থাগার ছিল না। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে গ্রন্থাগার গড়ে ওঠে। উত্তর ভবনের তিন তলায় ছাত্রীদের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে এই বিশাল গ্রন্থাগার। বর্তমানে প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক (সন্মান) ও স্নাতকোত্তর প্রথম পর্ব ও শেষ পর্ব কোর্স এবং ২১ টি বিভাগ চালু আছে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ২১টি বিভাগের মূল্যবান বই ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের রেফারেন্স বই গ্রন্থাগারে আছে। প্রায় ১০ হাজারের বেশি বই গ্রন্থাগার কে সমৃদ্ধ করেছে। এই বই সমূহ শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও নানা ধরনের গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের সেবা দানের জন্য ৩টি বাংলা ও ১টি ইংরেজি পত্রিকা রাখা হয়। শিক্ষকদের জন্য রয়েছে আলাদা পাঠকক্ষের সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য একটি বড় পাঠকক্ষ রয়েছে। বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিবছরই সময় উপযোগী বই সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। গ্রন্থাগারের বইসমূহের তালিকা কম্পিউটারাইজড করার কাজ চলমান যাতে খুব সহজেই বইসমূহ খুঁজে পাওয়া যায়।বই লেনদেনের জন্য রয়েছে ২টি কাউন্টার। সেখান থেকে ছাত্রীরা গ্রন্থাগার কার্ড জমা দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বই নিতে পারে।